হরমোনাল একনে কি এবং এর চিকিৎসা

হরমোনাল একনে কি এবং এর চিকিৎসা

হরমোনাল একনে বা হরমোনজনিত ব্রণ হচ্ছে, শরীরে হরমোনের ওঠা-নামার সঙ্গে সম্পর্কিত। মানে হচ্ছে, হরমোনের পরিবর্তনে এই ধরণের ব্রণ ত্বকে উঠতে দেখা যায়। বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালের সময়টাতে এই ব্রণের প্রকোপ বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউই এই ব্রণের আক্রান্তের শিকার হতে পারে। বিশেষ করে এটি নারীদের ক্ষেত্রে একদমই কমন একটা বিষয়। মাসিক, মেনোপজসহ বেশ কয়েকটি কারণে এই হরমোনজনিত ব্রণের দেখা মিলে।

হরমোনজনিত ব্রণ কি? 

hormonal acne
শরীরের হরমোন পরিবর্তনের কারণে যেই ব্রণ উঠে থাকে তাকেই হরমোনাল একনে বা হরমোনজনিত ব্রণ বলা হয়। বেশিরভাগ সময় এটি বয়ঃসন্ধিকালেই ঘটে থাকে। তবে হরমোনের ওঠানামার কারনে এটা যে কোন সময়ই হতে পারে। কিছু হরমোনের কারণেই এমনটা ঘটে থাকে।

১. এস্ট্রোজেন 

এটিকে অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের সেক্সুয়াল বা যৌন হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই হরমোন প্রজনন বিকাশের জন্য দায়ী।

২. প্রজেস্টেরন 

এটি নারীদের শরীরের এমন এক হরমোন যা গর্ভাধারণ এবং গর্ভাবস্থা প্রস্তুত করে থাকে।

৩. অ্যান্ডোজেন 

এটিকে পুরুষ সেক্সুয়াল বা যৌন হরমোনও বলা হয়ে থাকে। তবে এস্ট্রোজেনের তুলনায় বেশি পরিমাণে এটি নারীদেহেও থাকে। বয়ঃসন্ধিকাল প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অ্যান্ড্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হরমোনজনিত ব্রণ তৈরিতে ভূমিকা রাখে এমন একটি অ্যান্ড্রোজেন হচ্ছে টেসটোস্ট্রেরন। অ্যান্ড্রোজেনের স্তরে বিশৃঙ্খলা হলে আপনার ত্বকের সমস্যা হতে পারে। কেননা, অ্যান্ড্রোজেনের উচ্চস্তর সিবাম উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এই হরমোনের যে কোনো ত্রুটিই হরমোনজনিত ব্রণের কারণ হতে পারে।

হরমোনজনিত ব্রণ কেন হয়? 

men hormonal acne

Hormonal Acne on men

পুরুষদের হরমোন অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে। মহিলারাই হরমোনজনিত ব্রণের শিকার হয়। মাসিক, গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজ একজন নারীর শরীরের হরমোনকে পরিবর্তন করতে পারে এবং হরমোনজনিত ব্রণের ব্রেকআউট হতে পারে।

১. মাসিক

ঋতুচক্র শুরু হবার আগে হরমোনের ওঠানামার কারনে হরমোনজনিত ব্রণ দেখা দিতে পারে। সময় যত ঘনিয়ে আসে এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টরনের মাত্রা কমতে থাকে। তবে টেসটোস্টোরেনরের মাত্রা স্থির থাকে। আর পিরিয়ড চলাকালীন এটি প্রভাবশালী হরমোন হিসেবেই আধিপত্য বিস্তার করে। সিবাম উৎপাদনের সাহায্য করে ফলে ব্রণের ব্রেকআউট হয়।

২. মেনোপজ 

মহিলাদের মেনোপজের সময় এস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাস পায় এবং অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেও ব্রেকআউট হতে পারে।

৩. বয়ঃসন্ধি 

বয়ঃসন্ধিকালে হাড়ের শক্তি ও পেশী বৃদ্ধির জন্য পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে অ্যান্ড্রোজেনের স্তর বৃদ্ধি পায়। এই কারনেও সিবামের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ব্রণ ব্রেকআউট করতে পারে।

৪. পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম 

এই লক্ষণটা মহিলাদের সন্তান জন্মদানের বছরগুলোতে হয়ে থাকে। যখন উচ্চ স্তরের অ্যান্ড্রোজেন কোনো নারীর দেহে এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের উৎপাদন রোধ করে তখন পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম দেখা দেয়। ফলে তৈলাক্ত ত্বক এবং হরমোনজনিত ব্রণ দেখা দেয়। এটি নারীর দেহের প্রজনন চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে।

হরমোনজনিত ব্রণের লক্ষণ 

যেহেতু সেবেসিয়াস গ্রন্থি টি-জোনে অবস্থিত, তাই হরমোনহনিত ব্রণও এই জায়গাটাতেই ব্রেকআউট করে। বয়ঃসন্ধিকালে এই ব্রণগুলো কপাল এবং নাকের ব্রীজে উঠতে শুরু করে।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হরমোনজনিত ব্রণ সাধারণত মুখের নীচের অংশে দেখা দেয়। বিশেষ করে গাল এবং চোয়ালের আশেপাশে।

হরমোনজনিত ব্রণের চিকিৎসা – মেডিক্যাল 

What is Hormonal Acne?

১. হরমোন থেরাপি 

হরমোন থেরাপি হচ্ছে হরমোনজনিত ব্রণের প্রধান চিকিৎসা এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত ও প্রচলিত। এটি দেহের অ্যান্ড্রোজেনের সঞ্চালনের মাত্রা হ্রাস করার মাধ্যমে কাজ করে। হরমোন থেরাপির এই চিকিৎসাই মূলত হরমোনজনিত ব্রণের জন্য দারুণ কার্যকরী। হরমোন থেরাপিতে ব্যবহৃত ড্রাগগুলোকে তিনভাগে বিভক্ত করা যায়।

ক. অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর ব্লকার 

এই ড্রাগ অ্যান্ড্রোজেনকে আটকাতে প্রোটিনের (অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর) সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে কাজ করে। এটি শরীরে অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাবকে বাঁধা দেয় যা সিবামের উৎপাদন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

খ. ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভ 

এটি ডিম্বাশয়ে অ্যান্ড্রোজেনের উৎপাদন হ্রাস করে। গর্ভনিরোধক সুবিধা সন্ধানকারী নারীদের জন্য এটি বেশ কার্যকরী একটি প্রক্রিয়া। এই ড্রাগ অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা কমায়; ফলে সিবামের উৎপাদনও হ্রাস পায়।

গ. গ্লুকোকোর্টিকোয়েড 

এটি অ্যান্ড্রিনাল গ্রন্থিতে অ্যান্ড্রোজেনের উৎপাদন হ্রাস করে। অ্যান্ড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নানান রকমের হরমোন শরীরে নিঃসরণ হয়। এটি কোষগুলোকে সঠিকভাবে কার্য সম্পাদন করতে সহায়তা করে। এই গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদিত হতে পারে যা ব্রণের ব্রেকআউট ঘটাতে পারে।

২. ওরাল অ্যান্টি-বায়োটিকস 

আপনার ত্বক যদি সাময়িক ট্রিটমেন্টে কার্যকারিতা না পায় তাহলে ওরাল অ্যান্টি-বায়োটিকস গ্রহন করা যেতে পারে।

ক. ডক্সিসাইক্লিন 

একনে ইনফেকশন চিকিৎসার জন্য নিরাপদ ওষুধ হচ্ছে ডক্সিসাইক্লিন। এটিতে অ্যান্টি-ব্যাকটোরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ব্রণের লক্ষণ হ্রাস করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি লালচে ভাব, ফোলাভাব এবং ব্যথাও নিরাময় করে থাকে। এমনকি ব্রেকআউট হ্রাস করতেও এটা বেশ কার্যকরী।

খ. মাইনোসাইক্লিন 

ব্রণের ইনফেকশন চিকিৎসায় আরেকটি ওষুধ হচ্ছে মাইনোসাইক্লিন। কার্যকরী অ্যান্টি-বায়োটিক হিসেবে কাজ করার প্রমাণ রয়েছে এটিতে।

গ. আইসোট্রেটিনয়ন 

আইসোট্রেটিনয়ন হচ্ছে একটি ভিটামিন এ ডেরাইটিভ। ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সিস্টিক একনের চিকিৎসায়ও এটি দারুণ কার্যকরী।

৩. টপিক্যাল ট্রিটমেন্ট 

টপিক্যাল ট্রিটমেন্ট হচ্ছে হরমোনাল একনের চটজলদি চিকিৎসা।

ক. বেনজোয়েল পেরোক্সাইড 

ইনফ্লেমেটরি এবং নন-ইনফ্লেমেটরি হরমোনাল একনের সাময়িক চিকিৎসা হচ্ছে বেনজোয়েল পেরোক্সাইড। তবে বেনজোয়েল পেরোক্সাইড ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার মধ্যে শুষ্কতা, জ্বালা এবং চুলকানি অন্তর্ভুক্ত।

খ. স্যালিসিলিক এসিড 

স্যালিসিলিক এসিড হচ্ছে বিউটি ইন্ডাস্ট্রিজের একটি জনপ্রিয় উপাদান। কেননা এতে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান; যা একনের লক্ষণগুলো আরো স্পষ্ট করে তুলে।

গ. অ্যাজেলেইক এসিড 

ইনফ্লেমেটরি একনের সাময়িক চিকিৎসায় অ্যাজেলেইক এসিড ব্যবহার করা যায়। অ্যাজেলেইক এসিডে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্রণের লক্ষণগুলোকে আরো স্পষ্ট করে তুলে। তবে এটি ব্যবহারে গুরুতর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন – শ্বাসকষ্ট, র‍্যাশেস, আমবাত এবং ঘাড় ও জিহবা ফুলে যাওয়া।

ঘ. টপিক্যাল রেটিনয়েড 

টপিক্যাল রেটিনয়েড আপনার ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং গঠনকে আরো উন্নত করতে অবদান রাখে। রেটিনয়েডের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ব্রণ হ্রাস করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। টপিক্যাল রেটিনয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে চুলকানি, শুষ্কতা এবং লালচে ভাব।

৪. স্টেরয়েড ইনজেকশন 

ইনফ্লেমেটরি ব্রণের চিকিৎসায় স্টেরয়েড ইনজেকশন দেয়া হয়ে থাকে। এই ইনজেকশন ফুলে বা জ্বালাপোড়া করা অঞ্চলে স্বস্তি দেয়। তবে এটি ব্রণের জন্য প্রস্তাবিত কোন চিকিৎসা নয়। এটা হচ্ছে উৎসব বা বড় কোনো দিনের আগে রাতে ব্রণ থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য দেয়া হয়ে থাকে।

হরমোনজনিত ব্রণের চিকিৎসা – ঘরোয়া 

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া চিকিৎসার কোন বিকল্প নেই। ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো –

ক. হলুদ 

এতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানগুলো ব্রণের লক্ষণগুলোকে আরো স্পষ্ট করতে সাহায্য করে।

খ. ধনিয়া 

ধনিয়াতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-সেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। যা ইনফ্লেমেটরি একনে চিকিৎসায় দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

গ. কুটকি 

ক্রনিক একনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে কুটকির অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং সুদিং উপাদান।

ঘ. শতাওয়ারী 

এই উদ্ভিজ্জ শরীরের হরমোনের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্রণের লক্ষণগুলোর চিকিৎসায় কাজ করে থাকে শতাওয়ারী।

ঙ. লিকোরিস 

লিকোরিস বা যষ্টিমধুর নির্যাসে থাকে অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন প্রভাব। হরমোনের ভারসাম্যকে বজার রাখার পাশাপাশি হরমোনাল একনের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এটি।

লিংক: 

📞 ত্বকের সমস্যার জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন পেতে কল করুনঃ 01790 270066 অথবা ইনবক্স করুন। 
🌐 ১০০% অরিজিনাল কোরিয়ান প্রোডাক্টঃ https://chardike.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © chardike blog 2021
1 I like it
3 I don't like it

2 Comments

  1. Really helpful and useful information, I was in need, indeed.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *