কোরিয়ান স্কিন কেয়ার। ত্বকের সমস্যা ভেদে উপকরণ

কোরিয়ান স্কিন কেয়ার

একটা সময় ছিলো যখন ত্বকের যত্ন বলতে আমরা শুধু বেসন, চন্দন, গোলাপ জল আর এমন কিছু ঘরোয়া উপকরণের সাহায্যে রূপচর্চা করাকেই বুঝতাম। কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে আমরা সবাই হয়ে উঠেছি ত্বক সচেতন। যুগের সাথে সাথে নিজের ত্বকের বাড়তি একটু যত্ন নিতে কত কিছুই না চেষ্টা করি আর এই সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কোরিয়ান স্কিন কেয়ার। কোরিয়াতে শুধু মেয়েরাই নয় ছেলেরাও নিজের ত্বকের প্রতি একটু বাড়তি যত্নবান। আর তাদের এই সচেতনতা যেনো নিজেদের বয়স একদম বাক্সবন্দী করে রাখতে সাহায্য করে। উজ্জ্বল, দীপ্তিময় আর মসৃণ ত্বকের জন্য কোরিয়ানদের জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বব্যাপী। আর সেই জনপ্রিয়তা থেকেই কোরিয়ান স্কিন কেয়ার প্রথা এখন বহুল আলোচিত। ১০ স্টেপ স্কিন কেয়ার রুটিন থেকে শুরু করে AHA BHA ইত্যাদি বিভিন্ন নামের বিভিন্ন উপকরণের ব্যবহার সব কিছুই আমাদের জন্য একদম নতুন। আর এই নতুনত্বের সাথে খাপ খাওয়াতে এবং নিজেদের প্রতিদিনের স্কিন কেয়ার রুটিনে কোরিয়ান পন্য সামিল করার পূর্বে জেনে নিতে হবে কিছু জনপ্রিয় উপকরণ সম্পর্কে যা আপনার ত্বকের সমস্যা ভেদে সমাধান দেয়ার জন্য বেশ উপকারী।

১। স্যালিসাইলিক এসিড
যেকোনো ধরনের একনে, ব্ল্যাকহেডস কিংবা পোরসের সমস্যায় আমরা আজকাল স্যালিসাইলিক এসিডের কমবেশি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আসলে এই স্যালিসাইলিক এসিড কি এবং কেনো ব্যবহার করা হয় এই সম্পর্কে আমরা কত টুকু অগোচর?
‘অ্যাসিড’ শুনে ভীত হওয়ার দরকার নেই। কারণ, আমাদের ত্বক মূলত অ্যাসিডিক অবস্থায় থাকলেই নিরাপদ থাকে। কারণ,এটা অ্যাসিডিক হলে তা ত্বকের উপরিভাগে একটি সুরক্ষা প্রদানকারী স্তর তৈরি করে রাখে যা ক্ষতিকারক জীবাণু থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।স্যালিসাইলিক অ্যাসিড হচ্ছে মূলত ভিটামিন বি 11 যা এক প্রকার BHA বা বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড।
স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আসলে খুবই মাইল্ড এক্সফোলিয়েটর। এটি রোমকূপের গভীরে গিয়ে ত্বক কে পরিষ্কার, উজ্জ্বল করে তোলে। ত্বকের উপরের মৃত কোষ কে পরিষ্কার করতে এর জুড়ি নেই। এটি ত্বক এর উপরে যে মৃত কোষের স্তর থাকে তার মাঝে গিয়ে, নতুন সজীব ত্বক কে বের করে আনে।
> এটি ব্ল্যাক হেডস এবং হোয়াইট হেডস দূর করে।
> ত্বক এর সেবাম ক্ষরণ কে নিয়ন্ত্রন করে।
> মৃত কোষ কে পরিষ্কার করে।
> ত্বকের রোমকূপের গভীরে যেয়ে পরিষ্কার করে ফলে রোমকূপ সংকুচিত হয়।
> এমনকি এই অ্যাসিড যুক্ত শ্যাম্পু ড্যানড্রাফ দূর করে।
আপনি স্যালিসাইলিক অ্যাসিড যুক্ত যে কোন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই দারুণ ফল দেখতে পাবেন।
এটি যদি ক্রমাগত ভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে উপরোক্ত কারণ গুলির জন্য যাদের ব্রণ দেখা দিচ্ছে, তাদের সে সমস্যা থাকবে না। সকল ধরণের ত্বকের জন্য এটি উপকারী হলেও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি একটি জাদুকরী উপাদান।

২। নায়াসিনামাইড
এটি একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বি- 3 যা ত্বকের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। সাময়িক নিয়াসিনামাইড ব্রণ এবং একজিমা সহ ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট অবস্থার চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে। এছাড়াও নিয়মিত নায়াসিনামাইড ব্যবহারে,
১। ত্বকের রোমকূপ সংকুচিত হয়।
২। ত্বকের অসমান ছোপ ছোপ দাগ দূর হয়ে যায়।
৩। ফাইন লাইন বা বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।
৪। ত্বকের নিস্তেজভাব দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে।
৫। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বককে হাইড্রেশন নিশ্চিত করে।
৬। হাইপার পিগমেন্টেশন বা সানট্যান দূর করে।
৭। ত্বকের লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া প্রশমিত করে।
তাহলে বুঝতেই পারছেন নায়াসিনামাইড কেনো ব্যবহার করবেন?

৩। AHA বা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড
AHA বা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড মূলত উদ্ভিদ বা প্রানী থেকে প্রাপ্ত এক ধরণের এসিড তাই এই এসিড সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপকরণ থেকে আগত।
এই শ্রেণিভুক্ত এসিড গুলো হচ্ছে,
>সাইট্রিক অ্যাসিড যা কমলা থেকে আসে,
>গ্লাইকলিক অ্যাসিড যা চিনি বেত থেকে প্রাপ্ত,
>Hydroxycaproic অ্যাসিড যা রাজকীয় জেলি থেকে আগত,
>Hydroxycaprilic অ্যাসিড যা প্রাণী থেকে আসে,
>দুগ্ধজ অ্যাসিড যা কার্বোহাইড্রেট থেকে উদ্ভূত এবং
>ম্যালিক অ্যাসিড যা ফল থেকে প্রাপ্ত।
এটি মূলত একদম হালকা ধাঁচের এক্সফোলিয়েটর। ত্বকের উপরিভাগে ব্যারিয়ার তৈরি করতে এবং ত্বকের ব্লেমিশ, পিগমেন্টেশন এবং স্পট দূর করতে এটি বেশ কার্যকর। একদম প্রাকৃতিক উপাদন থেকে আগত হয় দেখে খুব একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে না। মূলত একনে প্রণ বা ড্যামেজড ত্বকের সমস্যা সমাধান করতে এই উপাদান ব্যবহৃত হয়।

৪। BHA বা বেটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড
BHA বা বেটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড মূলত তেলে দ্রবণীয় অ্যাসিড। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড মূলত এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এই শ্রেণীভুক্ত অ্যাসিড ত্বকের গভীরে যেয়ে মৃত কোষ দূর করতে এবং রোমকূপের গভীর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি উন্নত ধাঁচের এক্সফোলিইয়েটর যা ত্বকের গভীর থেকে ধূলা ময়লা পরিষ্কার করার জন্য বেশ কার্যকর।

2 I like it
0 I don't like it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *