স্কিনকেয়ারে করা যত ভুল

স্কিনকেয়ারে করা যত ভুল
অনেকেরই এই একটা প্রশ্ন শোনার অভিজ্ঞতা আছে – ত্বকের উন্নতি কীভাবে করা যায়? এটার উত্তর হচ্ছে – সঠিক একটা স্কিনকেয়ার রুটিন ফলো করা। তবে স্কিনকেয়ারে করা ভুল ত্বকের সর্বনাশ করতে পারে। মনে রাখবেন, পুরনো অভ্যাস ছাড়া যতটা না চ্যালেঞ্জিং তার চাইতে বেশি অনুপ্রেরণামূলক হচ্ছে ত্বকের উন্নতির জন্য স্কিনকেয়ার রুটিনের সঠিক বাস্তবায়ন। আপনার যদি যথাযথ একটি স্কিনকেয়ার রুটিন থেকে থাকে, সেটাতে সামান্য হলেও অসামাঞ্জস্যতা থাকতেই পারে। চলুন সেই অসামাঞ্জ্যতা বা ভুলগুলোকে খুঁজে বের করি এবং একটা সুন্দর ও সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন তৈরি করি।

রাতের বেলা মেকআপ না তোলা

স্কিনকেয়ারে করা যত ভুল

সবচেয়ে কমন এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর একটা ভুল – রাতের বেলা মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়া। ত্বকের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার পুরোটাই ঘটে থাকে রাতের বেলা; তাই এই সময়টা ত্বকের জন্য অত্যন্ত আদর্শ ও অপরিহার্য। এই সময়টাতে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো পুনরুদ্ধার হয় এবং ময়শ্চার পুনরায় পূর্ণতা পায়। ত্বকের নিজস্ব প্রাকৃতিক সিবাম উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে এসব করে থাকে।
এই তৈলাক্ত নিঃসরণ ত্বককে নিরাময় করতে সাহায্য করার জন্য পুষ্টি এবং ফ্যাটি এসিড সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু যদি আপনি যখন রাতের বেলা মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়েন তখন এই তেল মেকআপের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে ময়লাগুলো এই তেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দেয়। আর এটা তো জানা কথাই যে, ছিদ্র বন্ধ হলে ব্রেকআউট শুরু হয়।

ফেসিয়াল ওয়াইপের উপর ব্যাপক নির্ভরতা 

ফেসিয়াল ওয়াইপ সহজলভ্য, বহনযোগ্য এবং ব্যবহারেও মেলে সন্তুষ্টি। কিন্তু ফেসিয়াল ওয়াইপ ব্যবহারে রয়েছে কিছু অসুবিধা। সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে এটা ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে না। হ্যাঁ, মেকআপ এবং ত্বকের ময়লা অবশ্যই সরিয়ে দেয় ফেসিয়াল ওয়াইপ; তবে কোনোভাবেই এটি ক্লিনজার পরিবর্তে কাজ করতে পারে না।
মেকআপ তুলতেও ত্বকের উপর জোর খাটাতে হয়। প্রবল চাপ দিতে তবেই ত্বকের মেকআপ মুছতে হয় ফেসিয়াল ওয়াইপ দিয়ে। ফলে ত্বকের উপরের স্তরে থাকা প্রয়োজনীয় তেলও শুষে নেয় এই ওয়াইপ আর রেখে যায় ছিদ্রগুলোতে চটচটে ভাব। তাই নিত্যদিনের রুটিনে ফেসিয়াল ওয়াইপ ব্যবহার করাটা মোটেও সমীচীন নয়।

অতিরিক্ত বা অতি অল্প এক্সফোলিয়েশন করা 

স্কিনকেয়ারে করা যত ভুল

এক্সফোলিয়েটর দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা রাসয়নিক এক্সফোলিয়েটর এবং অন্যটা শারীরিক এক্সফোলিয়েটর। কোনটা আসলে ভালো তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। তবে অতিরিক্ত বা অতি অল্প এক্সফোলিয়েশন করা স্কিনকেয়ারের আরেকটি প্রাথমিক ভুল। বিশেষজ্ঞরা বলে যে, যতটা কম শারীরিক এক্সফোলিয়েট করা যায় ততই উত্তম। এক্সফোলিয়েটিং গুটিযুক্ত ফেইস স্ক্রাবগুলো সময়ের সাথে সাথে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
ত্বকের কোষের টার্নওভার এবং ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখতে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর, যেমন এএইচএ এবং বিএইচএ অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া এটি বার্ধক্যজনিত লক্ষনের বিরুদ্ধেও কাজ করে। কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যতীত ত্বক হয়ে উঠে নিস্তেজ এবং অসম। তাই নিয়মিত কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েট না করলে ব্রণ থেকে ব্রেকআউট অবধি ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই, অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েট করা যাবে না যাতে ত্বকের ময়শ্চার ব্যারিয়ার ভেঙ্গে যায়। আবার অতি অল্প এক্সফোলিয়েট করা যাবে না যাতে ত্বকে ব্রেকআউট দেখা দেয়।

সর্বদা সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা 

Skinfood Sunscreen

Skinfood Aloe Watery Sun Daily SPF50+ PA+++ 100ml

সানস্ক্রিন মেঘলা দিনে ব্যবহার করার দরকার নেই; এসপিএফ মেকআপ সংক্রান্ত সকল পণ্যেই থাকে; সানস্ক্রিন কেবল চেহারাতেই প্রয়োগ করতে হয়; এই জাতীয় ভ্রান্ত ধারণা স্কিনকেয়ারের অন্য আরেকটি প্রাথমিক ভুল। সান প্রটেক্টর ফ্যাক্টর ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের না হয়ে ঘরে থাকলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
এমনকি মেঘলা দিনেও সূর্যের আলো ঠিক যতটুকু প্রবেশ করে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারে ত্বকের। আর অবশ্যই মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন।

ময়শ্চারাইজার ব্যবহার না করা 

Moisturizer

Skinfood Royal Honey 100 Hour Moisture Cream- 100ml

ত্বক যেমনই হোক না কেন, ময়শ্চারাইজার সব ধরনের ত্বকের জন্যই আবশ্যক। ময়শ্চারাইজার ত্বকের নিজস্ব তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া, ময়শ্চারাইজার ত্বক হাইড্রেটেড রাখে সারাক্ষণ। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-ক্রিম ময়েশ্চারাইজারগুলো বেশ ভালো কাজ করে। অন্যথায় আপনি অন্য ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন যেটায় উদ্ভিদের তেল থাকে এবং যা লিনোলিক এসিডে সমৃদ্ধ থাকে।
ব্রণ প্রবণ ত্বক ওলেইক এসিড উৎপন্ন করতে পারে ত্বকে; যা অত্যন্ত ঘন এবং চটচটে। ফলে ছিদ্র আটকে দেয় এবং ব্রণ ছড়ায়। এসব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে চাই ময়শ্চারাইজার। ক্লিনজিংয়ের পরও অনেকে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করে না। এটাও ভুল।

দিনে-রাতে একই স্কিনকেয়ার রুটিন ব্যবহার 

দিন আর রাত যেমন এক নয় তেমনি দুই বেলাতেই একই স্কিনকেয়ার রুটিন ব্যবহার করাও ঠিক নয়। সকালবেলার স্কিনকেয়ার রুটিন সাধারণত সাজানো হয় ত্বক পরিষ্কার এবং মেকআপের যোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করতে। আর সন্ধ্যা বা রাতের বেলা সেই রুটিন বদলে গিয়ে ত্বকের পুনরুদ্ধার, বিশ্রাম এবং মেকআপ তুলার জন্য ব্যবহার করা হয়। দুই বেলার জন্য অবশ্যই দুটি আলাদা স্কিনকেয়ার রুটিন থাকা জরুরী।
সুতরাং, স্কিনকেয়ারে করা ভুল গুলো যদি আমরা শুধরে নিতে পারি তাহলেই আমাদের ত্বকের জন্য আর চিন্তে নাই। স্কিনকেয়ারে করা ভুল গুলো শনাক্ত করে সেগুলো থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করবো।
লিংক: 

📞 ত্বকের সমস্যার জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন পেতে কল করুনঃ 01790 270066 অথবা ইনবক্স করুন। 
🌐 ১০০% অরিজিনাল কোরিয়ান প্রোডাক্টঃ https://chardike.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © chardike blog 2021
0 I like it
0 I don't like it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *