ওপেন পোরস কী? কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

ওপেন পোরস
♦ ত্বকের ওপর যেন টর্চার করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
♦ ঘন ঘন স্ক্রাবিং করবেন না। ঘন ঘন স্ক্রাবিং পোরস ওপেন করে দেয়।
♦ ত্বকের যত্নে টোনার ব্যবহার করুন। টোনার পোরস মিনিমাইজ করতে সাহায্য করে।
ত্বকের লোমকূপ সম্পর্কে ধারণা নেই, এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবুও আবার সবার অবগতি এবং সচেতনতার জন্য কথাগুলো বার বার বলতেই হয়। উদ্দেশ্য একটাই ওপেন পোরস মুক্ত সুস্থ সুন্দর ত্বক। আর তাতে হেসে উঠবে আপনার ত্বক এবং আপনি সব সময় থাকবেন লাবণ্যময়।
ওপেন পোরস কী?
ত্বকের অনেক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পোরস বা বড় লোমকূপ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং স্কিন কেয়ার ভালোমতো না করলে পোরগুলো বড় এবং ওপেন হয়ে যায়। সাধারণত আমাদের নাকের ওপর, চোখের নিচে, গালের ওপর, কপালে এবং থুঁতনিতে হেয়ার ফলিক্যাল বের হয়। এই হেয়ার ফলিক্যাল যে তেল গ্রন্থি থেকে বের হয় সেটাই হচ্ছে ওপেন পোরস। এই পোরস যত ওপেন থাকে ততই আমাদের গ্রন্থির তেল বাইরে বেরিয়ে আসে আর তাতেই আমাদের ত্বক অনেক বেশি তৈলাক্ত হয়ে যায়। আর তা থেকে তৈরি হয় ব্রণের সমস্যা। অনেকের এই গ্রন্থির মুখে ধুলাবালি জমে ত্বকে তৈরি করে ব্ল্যাক হেডস এবং হোয়াইট হেডস। মনে রাখতে হবে, বড় পোরসে অনেক বেশি ময়লা এবং তেল জমে। যা ত্বকের নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। এই ওপেন পোরস রোধ বা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের ফলে ত্বকের চামড়া কুচকে যায়। ফলে বয়স হওয়ার আগেই দেখা দেয় বলিরেখা।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
অনেকে মনে করে বরফ দিয়ে ওপেন পোরস বন্ধ করা যায়। হ্যাঁ, অবশ্যই তা বন্ধ হয় কিন্তু তা সাময়িক। এক্ষেত্রে ভালো কোনো বিউটি পার্লার বা স্যালনে পোরস মিনি মাইজিং ট্রিটমেন্ট করাতে পাবেন। এছাড়া কমমেটোলোজিস্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবহার করতে পারেন পোরস মিনিমাইজিং এর কিছু প্রোডাক্ট। এতে ওপেন পোরস অনেকটাই ছোট হয়ে আসবে আর নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিন্তু একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে এই পোরস এমন কোনো সমাধান এখনো বের হয়নি। তবে এই তেল উৎপাদন কমাতে পারেন ক্লে বা চারকোল ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহারে। এসব ক্লিনজার ত্বকের তেল দূর করার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া ও ময়লাও টেনে বের করে।
এর পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন পোরস মিনিমাইজ এর জন্য স্কিনের ধরণ অনুয়ায়ী বেস্ট টোনার ‘ Etude House Wonder Pore Freshner ‘ এটি 7 in 1 টোনার।
টোনার লিঙ্কঃ https://chardike.com/…/etude-house-wonder-pore-freshner/
এই টোনার ব্যবহারে আপনার স্কিনের বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে যেমনঃ পোরস মিনিমাইজ হবে, ওয়েল কন্ট্রোল হবে, ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডস দূর হবে, ত্বকের পি.এইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখবে, স্কিনের টেকচার উন্নত হবে ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক সমাধানঃ
মূলত ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই ক্লিনজার ব্যবহার করেন। আর তারপর টোনার ব্যবহার না করলে এটা হয়। কারণ ক্লিনজার বা ক্লিনজিং মিল্ক ত্বকের পোরসগুলো খুলে এতে জমে থাকা ময়লা টেনে বের করে দেয়। এরপর টোনার সেই পোরসগুলো বন্ধ করে। তাই ক্লিঞ্জারের সঙ্গে টোনার ব্যবহার করতে বলা হয়। কিন্তু যাদের পোর্স বন্ধ হয়ে গেছে তারা কি করবেন? তাদের জন্য রইল পার্লারের বিউটিশিয়ানের পরামর্শের পাশাপাশি ট্রাই করতে পারেন ঘরোয়া সমাধান। আর তা অবশ্যই প্রাকৃতিক।
♦ তিন টেবিল চামচ কাজু বাদাম ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। সঙ্গে খানিকটা পানি এই পাউডারের সঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। পেস্টটি প্রথমে নাকে এরপর ত্বকের যেখানে ওপেন পোরসের সমস্যা রয়েছে সেখানে লাগান। ৩০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
♦ মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে পাকাপেঁপের কাঁথ পুরো মুখে ঘষে নিন। ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি নিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ওপেন পোরস সংকোচন ছাড়াও ব্রণের সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

0 I like it
0 I don't like it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *