একা বেঁচে থাকতে শিখো প্রিয়

how-to-survive-alone

“একা বেঁচে থাকতে শিখো প্রিয়” গানটি আমরা কম বেশি হয়তো সবাই শুনেছি। কিন্তু বর্তমান দিনে এই গানটিই যেনো আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্য। কথায় বলে, “দুনিয়াতে এসেছি একা, যেতেও হবে একা” কিন্তু আজকাল যেনো বেঁচে থাকতেও হচ্ছে একা। আর এই একাকীত্ব নিজের মনকে পুরোপুরি গ্রাস করে নেয়ার আগেই নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। নিজের সঙ্গ উপভোগ করতে শিখুন। হয়তো নিজের ডিপ্রেশন পুরোপুরি কাটিয়ে তুলতে পারবে না তবে ভালো থাকার জন্য কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। আর আজকে আয়োজনে জেনে নিন নিজেকে ভালোবাসার ছোট্ট কিছু টিপস।

১। দিনের কিছুটা সময় রাখুন নিজের নামে
স্বামী, সংসার, বাচ্চা, চাকরী কিংবা নিজের ব্যাক্তিগত ব্যস্ততা যাই থাকুক না কেনো পুরো দিনের কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতে চেষ্টা করুন। এই সময়টা হতে পারে বিকালে বাচ্চারা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর কিংবা সকালে সবাই ঘুম থেকে উঠার পূর্বে অথবা মধ্যরাতে যখনই একটু সময় পান নিজেকে সময় দিন। সেই সময় টুকু এক কাপ কফি নিয়ে পছন্দের একটু গান শুনলেন বা নিজের পছন্দের গল্পের বইটিতে যে বছরের পর বছর ধরে ধূলা জমে আছে তার দুটো পাতা পড়ে নিলেন বা করতে পারেন হালকা কিছু এক্সারসাইস বা ইয়োগা। চাইলে বানিয়ে ফেলুন নিজের পছন্দের কোনো খাবার এবং সময় নিয়ে সেটা একাই উপভোগ করুন।

২। জীবনের সবটুকু কোনো একটি বিষয়ে ইনভেস্ট করবেন না
চাকরী, সংসার বা বাচ্চা কাচ্চা কোনো কিছুতেই জীবনের সবটা ব্যয় করবেন না। ক্যারিয়ার, অর্থ, সম্পদ, সংসার এই সবকিছুই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আর ভালো ভাবে বেঁচে থাকতে হলে এই সবকিছুই আমাদের জীবনে প্রয়োজন। তাই নিজের প্রায়োরিটি লিস্টে শুধু একটি জিনিষ রাখবেন না। নিজের জীবনকে ব্যালেন্স করতে শিখুন। কারণ একটা সময়ে ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে যাবে, হয়তো জীবনসাথী আজীবন পাশে থাকবে না, চাকরি থেকে একদিন অবসর নিতে হবে আর তখন নিজের জীবনে অনেকটা শূন্যস্থান তৈরী হয়ে যাবে। তাই এখন থেকেই নিজের জীবনে সবকিছুর ব্যালেন্স করতে শিখুন আর সাথে নিজের জন্য রাখুন একটুখানি শখ আহ্লাদ।

৩। ব্যস্ততাকে অজুহাত বানিয়ে ফেলবেন না
মনে আছে একটা সময় কলেজের এন্যুয়াল প্রোগ্রামে গলা ছেড়ে গান করতেন আর মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো পুরো কলেজ? কিংবা আড্ডার মাঝে গিটারের টুংটাং আর সাথে পছন্দের ব্যান্ড নিয়ে চা এর কাপে ঝড় তুলে ফেলতেন। অথবা ঘন্টার পর ঘন্টা বাড়ির ছাদে লুকিয়ে লুকিয়ে রবীন্দ্র আর শরৎ বাবুর বিশাল বড় সমগ্র শেষ করে ফেলতেন। এখন হয়তো সেই দিন আর ফিরে পাবেন না কিন্তু নিজের পছন্দের বই কিংবা গান গুলোকে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিদায় দিলেও কিন্তু চলবে না। পথে বসে ট্র্যাফিক জ্যাম নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে সাথে রাখুন পছন্দের ছোট একটি গল্পের বই অথবা স্কেচবুক। ছোটবেলার বইয়ের মাঝে আকাবুকির অভ্যাসটা আবার ফিরিয়ে আনুন নিজের ছোট্ট একটি স্কেচবুকে। যতই ব্যস্ত দিন থাকুক না কেনো দিন শেষে নিজের একটু যত্ন করুন। একদম সিনেমার মত না পারলেও নিজের পছন্দের ছোট্ট একটি ক্যান্ডেল জ্বালিয়ে একটু রিল্যাক্স করুন, নিতে পারেন হট শাওয়ার বা গরমের দিনে একটা রিফ্রেশিং বাথ। পছন্দের সুগন্ধি ব্যবহার করুন, মেকআপ করতে ভালো লাগলে মাঝে মাঝে কারন ছারাই সাজুন। মনে রাখবেন ভালো থাকতে কোনো কারণ লাগে না, নিজের মনের প্রশান্তি যেকোনো ভাবেই আসতে পারে।

৪। নিজের পিছনে খরচ করুন
মিতব্যয়ীতা বেশ ভালো একটি গুন। যেকোনো দুঃসময়ের জন্য কিছু অর্থ হাতে রাখলে মানসিকভাবে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। এছাড়া অহেতুক অপচয় করা খুবই খারাপ স্বভাব। তবে সংসারের সবার জন্য সেভিংস করতে করতে নিজের সব শখ আহ্লাদ একেবারে বিদায় দিয়ে দিলে চলবে না। খুব অল্প হোক তবুও নিজের জন্য পছন্দের কিছু কেনাকাটা করুন। দামী শাড়ি বা অলংকার না হলেও নিজের পছন্দের একটা বই কিংবা একটা ফুল গাছ বা চাইলে নিজের জন্য দুটো ফুল কিনুন। একটা ফুল নিয়ে খোপায় পড়ুন বা নিজের ঘরে সাজিয়ে রাখুন। দেখবেন সারাদিনের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। মনের প্রশান্তির থেকে দামী কিছু নেই তাই নিজের পরিবারের জন্য হলেও প্রথমে নিজে ভালো থাকা শিখুন।

2 I like it
0 I don't like it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *