স্কিন টিয়ার কি এবং এর চিকিৎসা

স্কিন টিয়ার কি এবং এর চিকিৎসা

বয়স ত্বকের অন্যতম বড় শত্রু। কেননা, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের অবস্থা দিনকে দিন বেগতিক হতে শুরু করে, যদি না নেয়া হয় ত্বকের সঠিক যত্ন। স্কিন টিয়ারও তেমনই একটা বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমন একটা ব্যাপারে পরিণত হয় স্কিন টিয়ার। বয়স বাড়লে ত্বক শুষ্ক এবং দুর্বল হতে থাকে। সামান্যতম চাপেও ছিঁড়ে যেতে পারে ত্বক। এমনকি অ্যাডহেসিভ ব্যান্ড-এইডগুলোও এমন দুর্বল ত্বক ছিঁড়ে দিতে সক্ষম।
skin tear
শুধুমাত্র বয়সই নয়; অযত্ন আর অবহেলার কারণেও এমনটা হতে পারে। শীতের দিনে ক্রিম ব্যবহার না করলে যেমন ত্বক রুক্ষ হয়ে ফেটে যায়; স্কিন টিয়ারও অনেকটা তেমন। তবে এটা সারাবছর ধরেই হতে পারে। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, কাটাছেড়া অথবা এমনকি ইনফেকশনও হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কি সম্ভব? সব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের আয়োজন।

স্কিন টিয়ার কি? 

স্কিন টিয়ার হচ্ছে ত্বকের একধরণের রূপ; যার ফলে ত্বক ভঙ্গুর, দুর্বল এবং শুষ্ক হয়ে ওঠে। বয়স যত বাড়ে এই ব্যাপারটা ততটাই কমন হয়ে যায় মানুষের কাছে। কেননা, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকের সর্বত্র যে রক্তনালীগুলো রক্ত প্রবাহিত করে থাকে, তা কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে। ফলে ত্বকের টিস্যুগুলো পর্যাপ্ত ময়শ্চার এবং পুষ্টি পায় না। এতে করে ত্বক হয়ে উঠে শুষ্ক, দুর্বল এবং ভঙ্গুর। আবার, নিয়মিত যত্ন না নিলেও এমনটা হয়ে থাকে। এতে করে ইনফেকশন এবং তা থেকে স্কিন ক্যানসার হবার সম্ভাবনা থাকে।

স্কিন ফ্ল্যাপ কি? 

স্কিন ফ্ল্যাপ মূলত ত্বক নিরাময়ের একটি পদ্ধতির নাম। এটা খুবই সাধারণ আর প্রচলিত একটা পদ্ধতি যার মাধ্যমে বড় বা গভীর ক্ষতে আবরক হিসেবে স্কিন ফ্ল্যাপ ব্যবহার করা হয়। খুব সহজ করে বললে, ত্বক যদি ভঙ্গুর বা দুর্বল হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে দেহের অন্য জায়গার ত্বক দিয়ে সেই জায়গাটা নিরাময় করাই হচ্ছে স্কিন ফ্ল্যাপ পদ্ধতি। যেই জায়গা থেকে ত্বক নেয়া সেটাকে ডোনার সাইট বলা হয়। আর ডোনার সাইট বা স্কিন ফ্ল্যাপ সবসময় স্বাস্থ্যকর ত্বক হতেই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে ক্ষতের কাছাকাছি থাকা স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং সেগুলোর রক্তনালী সরিয়ে প্রতিস্থাপন করে নিরাময় করা হয়।
skin flap

স্কিন টিয়ারের প্রকারভেদ 

তিন ধরনের স্কিন টিয়ার রয়েছে। আর সেগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে স্কিন ফ্ল্যাপের টেকসইয়ের উপর ভিত্তি করে।

ক্যাটাগরি ১ 

ক্ষতের চারিদিকের প্রান্তগুলো ঢেকে দেয়ার মতো স্কিন ফ্ল্যাপ যথেষ্ট থাকলে। এই ধরনের স্কিন টিয়ার নিরাময়যোগ্য। সেক্ষেত্রে পূর্বের স্কিন ফ্ল্যাপটি পরিবর্তন করে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করতে হবে এবং ক্ষতটি ঢেকে দিতে হবে ড্রেসিং করে। এর মধ্যে স্কিন ফ্ল্যাপ কার্যক্ষম কিনা তা নিয়ে শ্রেণিবিভাগ আছে। ক্যাটাগরি ১ এর ক মানে হচ্ছে স্কিন ফ্ল্যাপটি গোলাপি এবং স্বাস্থ্যকর হবে। আর ক্যাটাগরি ১ এর খ মানে হচ্ছে স্কিন ফ্ল্যাপটি ফ্যাঁকাসে, নীল অথবা বেগুনি, যার অর্থ এটি নিরাময়যোগ্য নয়।

ক্যাটাগরি ২ 

পূর্বের স্কিন ফ্ল্যাপ ড্যামেজ হয়ে গেছে এবং এটি আর পরিপূর্ণভাবে বন্ধ হবে না। মানে হচ্ছে ক্ষতের উপর পুনরায় স্কিন ফ্ল্যাপ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ এটি নিরাময়যোগ্য নয়। এই ক্ষেত্রে, স্কিন টিয়ার সঠিকভাবে নিরাময় করা যাবে না; কারণ ফ্ল্যাপটি ক্ষতের প্রান্ত অবধি পৌঁছাবে না। উপরের মতোই, ক্যাটাগরি ২ এর ক মানে গোলাপি এবং স্বাস্থ্যকর। আর ক্যাটাগরি ২ খ মানে ফ্ল্যাপটি নীল বা ফ্যাঁকাসে।

ক্যাটাগরি ৩ 

ত্বকের স্কিন ফ্ল্যাপ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে এটি নিরাময়যোগ্য, অবশ্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ট্রিটমেন্টের চাইতে বেশি গুরুতপূর্ণ হলো স্কিন টিয়ার রোধ করা। তবে এই ক্যাটাগরিতে খুব কম স্কিন টিয়ারই রোধ করা যায়; বিশেষত যখন স্কিন ফ্ল্যাপটিই পাওয়া যায় না। যদি ত্বক ছিঁড়ে যায় তাহলে ক্ষতটাকে এমনভাবে ট্রিটমেন্ট করতে হবে যেন আর কোন ক্ষতি না হয়।

ঝুঁকির কারণ 

  • যদিও স্কিন টিয়ার যে কোন বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে যে কোন সময়ই হতে পারে। তবুও কিছু লোকেদের অন্যদের তুলনায় অত্যন্ত বেশি ঝুঁকি থাকে।
  • প্রবীণরা, বিশেষ করে যারা শারীরিকভাবে দুর্বল এবং চলাচলের জন্য অন্যের সহায়তা দরকার।
  • শিশুরা, যেহেতু যে কোন বস্তুর উপর পড়ার বা ধাক্কা বা ঘষা খাওয়ার ঝুঁকি থাকে তাদের সবচেয়ে বেশি।
  • চলাচলে অক্ষম প্রতিবন্ধী, যাদের পড়ে যাওয়া এবং দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
  • যাদের স্কিন টিয়ার সংক্রান্ত পূর্বের ইতিহাস রয়েছে।
  • যাদের বুদ্ধিহীনতা বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ রয়েছে, কিংবা যারা খুব বেশি উত্তেজিত এবং এমনকি নিজেদেরকে আহত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • যাদের ত্বক দীর্ঘমেয়াদী শুষ্কতায় ভোগে, ত্বকে ডিহাইড্রেশনের অভাব।
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, যেমন – টপিক্যাল কোর্টিসোন ক্রিম, ব্যবহারের কারণে অনেকের ত্বক পাতলা হয়ে যায়।
  • মেনোপজ হয়ে যাবার পরের নারীদের, এস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে ত্বক আরো বেশি ভঙ্গুর হয়ে যায়।

স্কিন টিয়ার ট্রিটমেন্ট 

  • চিকিৎসার সামগ্রিক লক্ষ্য হলো ক্ষতটাকে ইনফেকশন থেকে রক্ষা করা। সংক্রমণের হাত থেকে পার্শ্ববর্তী টিস্যুগুলোকে সুরক্ষা দেয়া এবং নিয়াময়ের জন্য আর্দ্রতাকেও ধরে রাখা। যদি স্কিন টিয়ার নিজেই ঠিক করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত ব্যাপারগুলোতে লক্ষ্য রাখবেন।
  • ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হলে হালকা চাপ প্রয়োগ করুন।
  • স্যালাইন কিংবা পানি দিয়ে স্কিন টিয়ারের জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। হাইড্রোজেন পারক্সাইড বা অন্যান্য প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে স্যালাইন পানিই সেরা।
  • স্কিন টিয়ারকে বাতাসে শুঁকাতে দিন। তবে ঘষবেন না।
  • স্কিন ফ্ল্যাপ থাকলে সেটা যথাযথ স্থানে প্রয়োগ করুন।
  • স্কিন টিয়ারের জন্য উপযুক্ত একটি ড্রেসিং ব্যবহার করুন।

স্কিন টিয়ার প্রতিরোধ 

স্কিন টিয়ার প্রতিরোধের জন্য আপনি নিতে পারেন কয়েকটি পদক্ষপ। যার মধ্যে আলোচিত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ত্বক আর্দ্র রাখুন 

শুষ্ক ত্বকই স্কিন টিয়ারের বড় কারণ। তাই, ত্বককে আর্দ্র রাখা প্রতিরোধের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট। ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার বন্ধ রাখুন। দিনে অন্তত দুবার ময়শ্চারাইজার প্রয়োগ করুন।

নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন 

ঘরের মধ্যেও হাঁটাচলার ক্ষেত্রে এটা-ওটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্কিন টিয়ারের সম্ভাবনা থাকে প্রচুর। তাই ঘরের মধ্যে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন। হাঁটাচলার পথটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং প্রশস্ত রাখুন; যাতে অন্য কিছুর সঙ্গে ধাক্কা বা ঘষা না লাগে। দরকারে ধারালো প্রান্তগুলোতে নরম কিছু দিয়ে রাখতে পারেন।

সুরক্ষামূলক পোশাক পরিধান করুন 

সুরক্ষামূলক পোশাক পরিধানের মাধ্যমে স্কিন টিয়ার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য লম্বা হাতার শার্ট এবং লম্বা মোজা ব্যবহার করুন।

সুষম খাদ্য গ্রহণ 

পুষ্টির অভাব এবং ডিহাইড্রেশনের কারণে স্কিন টিয়ারের সম্ভাবনা থাকে সবচাইতে বেশি। ত্বককে শক্তিশালী রাখতে এবং স্কিন টিয়ার প্রতিরোধ বা নিরাময় করতে প্রচুর পানি পান করুন; ভিটামিন সি সমৃদ্ধ শাকসবজি এবং ফলমূল খান। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বাছাই করুন।

অ্যাডহেসিভ ব্যান্ড-এইড এড়িয়ে চলুন 

অ্যাডহেসিভ ব্যান্ড-এইড বা মেডিক্যাল টেপ এড়িয়ে চলুন পারতপক্ষে। এতে থাকা আঠা স্কিন টিয়ারের কারণ হতে পারে। পরিবর্তে পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ক্ষত স্থানটি সাদা ব্যান্ডেজে পেচিয়ে রাখতে পারেন।

লিংক: 

📞 ত্বকের সমস্যার জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন পেতে কল করুনঃ 01790 270066 অথবা ইনবক্স করুন। 
🌐 ১০০% অরিজিনাল কোরিয়ান প্রোডাক্টঃ https://chardike.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © chardike blog 2021
0 I like it
0 I don't like it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *