মেলাজমা কেন হচ্ছে

মেলাজমা কেন হচ্ছে? এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ কি?

ত্বকে যখন বাদামি বা ছাই রঙের দাগ দেখা যায় তখন ত্বকের সেই অবস্থার নামই হচ্ছে মেলাজমা। মেলাজমাকে বাংলায় মেস্তা বলা হয়ে থাকে। আপনি মেলাজমা শব্দটা আগে না শুনলেও মেস্তা অনেকবারই শুনেছেন হয়তো। বিভিন্ন বয়সেই ত্বকে মেস্তা দেখা দিতে পারে। তবে মেস্তা কেন হয়, বা কিভাবে এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ করতে হয় এই সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই কোনো ধারণা নেই। অনেকেই মনে করেন সময়ের সাথে সাথে মেস্তা কমে যাবে। কয়েকধরণের মেস্তা প্রতিকার ছাড়া কমলেও কিছু কিছু থেকে যায় আজীবন।

মেস্তা কেন হয়?

১. সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির কারণে।

২. ত্বক তৈলাক্ত হওয়ায় মেলাজমা হতে পারে।

৩. কোনো প্রকার নির্দিষ্ট ঔষুধের রিয়েকশনে হতে পারে।

৪. প্রেগন্যান্সির সময়।

৫. হরমোনজনিত কারণে।

৬. নকল বা নিম্নমানের কসমেটিক্স ব্যবহারে।

মেলাজমা কোন কোন স্থানে হয়?

সাধারণত গাল, নাক, ঠোঁট ও কপালে মেলাজমা হয়ে থাকে। সূর্যরশ্মি শরীরের যে স্থানে বেশি পড়ে সেখানেও হয়ে থাকে।

মেলাজমার প্রতিরোধ কিভাবে করবো?

মেলাজমার প্রতিরোধ তেমন কঠিন কিছু নয়। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই আপনার ত্বকে মেস্তা দেখা দিবে না।  মেলাজমা/মেস্তা প্রতিরোধের সহজ কিছু নিয়ম-

১. বাইরে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত পরিমান সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

২. স্কার্ফ বা ওড়না মাথায় জড়িয়ে ঘর থেকে বের হবেন। ছাতাও সাথে রাখতে পারেন।

৩. ফুল-হাতা ও পিঠ ঢাকা জামা পড়ুন।

৪. ভিটামিন-এ যুক্ত ফেসিয়াল ট্রিটমেন্ট নিন।

মেলাজমার প্রতিকারে করণীয় কি?

১. সপ্তাহে অন্তত দুইদিন চালের গুঁড়া ও ডিমের পেস্ট ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করুন।

২. লেবুর রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩. ঘৃতকুমারী পাতার রস ত্বকে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন।

মেলাজমা আমাদের ত্বকের বড় কোনো ক্ষতি করে না। তাই মেলাজমা নিয়ে ভয় পাবার কিছুই নেই। প্রেগন্যান্সির কারণে যে মেস্তা হয় তা বাচ্চা হওয়ার পর মিলিয়ে যায়। তাই এমতাবস্তায় মেস্তা নিয়ে চিন্তা করবেন না। একটু সাবধান থাকলেই আপনার ত্বককে মেস্তা থেকে রক্ষা করতে পারবেন। তাই, উপরের ধাপগুলো মেনে চলুন। আশা করি উপকৃত হবেন।

0 I like it
0 I don't like it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *